ঢাকা, বাংলাদেশ ।     বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন,  ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পাটগ্রামে (বাহুবলী ৫৫৫) নকল ভুট্টার বীজ প্যাকেট করে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে অসাধু ব্যাবসায়ী চক্র।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ‘বাহুবলী ৫৫৫’ নামে ভুট্টার বীজ প্যাকেটজাত করে বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। স্থানীয়দের সহায়তায় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বীজ প্যাকেটজাতের কার্যক্রম দেখতে পান বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন ভুট্টা মৌসুমকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ নকল বীজ প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। সংশ্লিষ্ট বীজের অনুমোদন, মান ও প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা প্রয়োজন। তবে বীজগুলো নকল কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ বীজ ও প্যাকেট

ঘটনাসংশ্লিষ্ট ছবিতে লাল রঙে প্রক্রিয়াজাত বিপুল পরিমাণ বীজ, বিভিন্ন ধরনের বীজের প্যাকেট এবং প্যাকেটজাতকরণের কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী দেখা যায়। প্যাকেটগুলোর মধ্যে ‘বাহুবলী ৫৫৫’ নামের মোড়কও প্রতীয়মান হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আসন্ন মৌসুমে এসব বীজ বাজারজাত করা হলে কৃষকেরা প্রতারণার শিকার হতে পারেন। 

আসন্ন মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতির আশঙ্কা

ভুট্টা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পোলট্রি খাদ্য, পশুখাদ্য ও বিভিন্ন শিল্পে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিবছর বহু কৃষক এ ফসল চাষ করেন। এ অবস্থায় নিম্নমানের, ভেজাল কিংবা অননুমোদিত বীজ বাজারে ছড়িয়ে পড়লে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম ক্ষমতা কম হলে জমিতে গাছের সংখ্যা কমে যেতে পারে। আবার বীজের জাত, বিশুদ্ধতা ও গুণগত মান প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে ফলনও কম হতে পারে। এতে বীজ কেনার খরচের পাশাপাশি জমি প্রস্তুত, সার, সেচ ও শ্রমের ব্যয়ও কৃষকের লোকসানের কারণ হতে পারে।

বীজের অনুমোদন ও মান যাচাইয়ের দাবি

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ‘বাহুবলী ৫৫৫’ নামের বীজের নিবন্ধন, অনুমোদন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং বাজারজাতের বৈধতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি প্যাকেটের লেবেল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, লট নম্বর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

বীজের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে এর গুণগত মান ও প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা গেলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানে কীভাবে বীজ প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল এবং বাজারজাতের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, কোনো অভিযান পরিচালনা কিংবা তদন্ত শুরুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo